যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু করেছে। ইরানও পাল্টা হামলা করছে। ইরানকে ঘিরে এই যুদ্ধ শুধু সামরিক সংঘাতেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে বিশ্ব খাদ্যব্যবস্থার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এই যুদ্ধ বিশ্বে ভয়াবহ খাদ্য সংকট ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সার কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুতর চাপ তৈরি হচ্ছে।
যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই বাড়বে বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের আশঙ্কা। অনলাইন আরটি’তে প্রকাশিত এক খবরে একথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, বিশেষ করে উত্তর গোলার্ধের কৃষকদের জন্য সময়টা অত্যন্ত সংবেদনশীল। বসন্তকালীন চাষাবাদের মৌসুম শুরু হয়েছে। আর এই সময়ে সারের চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। সাধারণ ভোক্তারা যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে সবচেয়ে বড় প্রভাব হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এর পাশাপাশি সারের দামও দ্রুত বাড়ছে এবং সারের কাঁচামালের সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
চলমান সংঘাত সার উৎপাদনের পুরো শৃঙ্খলকে প্রভাবিত করছে। বিষয়টি বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে আধুনিক সার কীভাবে তৈরি হয়। সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক গ্যাস নাইট্রোজেনের সঙ্গে হাইড্রোজেন মিশিয়ে অ্যামোনিয়া তৈরি করা হয়। পরে সেই অ্যামোনিয়া থেকে তৈরি হয় ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং ইউরিয়া অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (ইউএএন)। এগুলোকে একত্রে নাইট্রোজেনভিত্তিক সার বলা হয়। কৃষকরা ফসফরাস ও পটাশিয়ামভিত্তিক সারও ব্যবহার করেন। তবে নাইট্রোজেন সারই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত। বিশ্বব্যাপী মোট সারের ব্যবহারের প্রায় ৫৯ শতাংশই নাইট্রোজেন সার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সার ছাড়া পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক খাদ্য উৎপাদনই সম্ভব হতো না।
প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুতের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল অ্যামোনিয়া উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বৈশ্বিক সার উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা পালন করে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং রাশিয়া। তবে ইরান, সৌদি আরব এবং কাতার যথাক্রমে বিশ্বের নবম, দশম ও একাদশ বৃহত্তম উৎপাদক। বিশ্বের নাইট্রোজেনভিত্তিক সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে মার্চের শুরু থেকেই এই প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

No comments:
Post a Comment